নেশার টাকার জন্য মা-ভাইকে বঁটি দিয়ে কোপ

চন্দ্রিমা থানা
রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। বাড়ির ভেতর হঠাৎ শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। প্রতিবেশীরা বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঘটেছে। খবর যায় পুলিশে। পুলিশ গিয়ে দেখে, ঘরের ভেতর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন এক মা ও তাঁর ছেলে। ধারালো বঁটির আঘাতে দুজনের শরীর রক্তাক্ত।
অভিযোগ উঠেছে, নেশার টাকার জন্য তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন পরিবারেরই আরেক সদস্য মেহেদী হাসান ওরফে মুন্না (৩৪)। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী উত্তরপাড়া এলাকায়।
আহত দুজন হলেন, মেহেদীর মা মোসা. মনোয়ারা খাতুন (৫৫) এবং ছোট ভাই মো. মৃদুল (২৮)।
পুলিশ বলছে, হামলার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ঘরের দরজা ভেঙে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় স্থানীয় লোকজন মেহেদীকে ধরে মারধর করেন। পরে আহত তিনজনকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেহেদী ও মৃদুলকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মনোয়ারা খাতুনকে রাখা হয় ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আরও ভয়াবহ কিছু খবর। কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, হামলার শিকার মা ও ছেলে মারা গেছেন।
তবে পুলিশ বলছে, সেই তথ্য সঠিক নয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত তিনজনের কেউ মারা যাননি। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাচাই না করে এমন তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। আহত মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে বাদী হয়ে শনিবার রাতেই চন্দ্রিমা থানায় মামলাটি করেন। মামলার পর মেহেদীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত বঁটিটিও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মেহেদী মাদকাসক্ত। নেশার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই মা ও ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে হামলার পেছনে নেশার টাকা ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে মেহেদী সুস্থ হলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেছেন, ‘খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত বঁটিটিও জব্দ করা হয়েছে।’







