৯ বছরের দুর্ভোগের অবসান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সিংড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথের ভাঙা সেতুটি অবশেষে বেইলি ব্রিজে রূপ পেয়েছে। ৯ বছর ধরে সেতুটি ভাঙা থাকায় যে দুর্ভোগে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা, নতুন সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে তার অবসান হয়েছে। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলও হয়েছে সহজ।
২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হতো। গত ১০ জুলাই দৈনিক আগামীর সময়ে ‘ভাঙা সেতুতে ৯ বছরের দুর্ভোগ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সেতুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে এলাকায় ফিরেছে স্বস্তি। স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর হোসেন শাকিলের ভাষায়, ‘সিংড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথের ব্রিজটি দীর্ঘদিন ভেঙে থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগের পাশাপাশি তৈরি হয়েছিল নিরাপত্তাঝুঁকিও। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেন।’
কৃষির পাশাপাশি সিংড়া জাতীয় উদ্যানের পর্যটন ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রমেও নতুন সেতুর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মো. শাজাহান আলী মনে করেন, সিংড়া জাতীয় উদ্যান উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। এটি পর্যটনের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দেশের একমাত্র শকুন পরিচর্যাকেন্দ্র এখানে থাকায় উদ্যানটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় অবসান হয়েছে দুর্ভোগের। নতুন সেতুর কারণে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে এবং উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেশি মানুষ আসবেন।
বীরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, ‘দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলামের সহযোগিতায় সেতুটি নির্মাণ শেষ হয়েছে। এর পরেও স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন হলে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।’
একই সঙ্গে জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য দৈনিক আগামীর সময়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।






