অনলাইন জুয়া
চাকরি, অর্থ, জমি সব হারিয়ে কারাগারে

সংগৃহীত ছবি
একসময় করতেন ভালো চাকরি। নিয়মিত আয়ে সংসারে ছিল সচ্ছলতা। পরিবারেরও স্বপ্ন ছিল তাকে ঘিরে। কিন্তু অনলাইন জুয়ার নেশা সেই স্বপ্নকে পরিণত করেছে দুঃস্বপ্নে। চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বিষ্ণু সরকার। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগডোমা গ্রামের সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
তবে এই ঘটনার পেছনে আরও একটি মানবিক ও সামাজিক ট্র্যাজেডির গল্প উঠে এসেছে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের এক সদস্য বললেন, কয়েক বছর আগেও টাকা-পয়সার অভাব ছিল না। ঘুরে বেড়াত, জমিও কিনেছিল। কিন্তু পরে মোবাইলে অনলাইন ক্যাসিনো খেলতে শুরু করে। এরপর একে একে সব শেষ হয়ে যায়। এখন জমিও নেই, সঞ্চয়ও নেই।
তিনি দাবি করেন, বিষ্ণু সরকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিসার ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের জন্য তার কাছে কোম্পানির চেক ছিল। কিন্তু খারাপ সঙ্গ ও অনলাইন ক্যাসিনোর নেশায় জড়িয়ে পড়ে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন। পরবর্তীকালে সেই চেক-সংক্রান্ত জটিলতা থেকেই মামলার সূত্রপাত।
স্ত্রী লাকির চোখের সামনে ভেঙে পড়া সংসার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বললেন, শুরুর দিকে ও খুব ভালোভাবে চাকরি করত। পরে বদলে যায়। আমি অনেকবার অনলাইন জুয়া খেলতে নিষেধ করেছি। কিন্তু আমার কথা শোনেনি। এখন সংসার কীভাবে চলবে, জানি না। এত বড় ক্ষতির বোঝা নিয়ে আমি কী করব?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী বললেন, বিষ্ণু একসময় এলাকার পরিশ্রমী ও ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। মানুষের সঙ্গে চলাফেরা কমে যায়। পরে শুনি অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়েছে।
বিষ্ণু সরকার যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের এক ম্যানেজার বললেন, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তার ওপর আমাদের আস্থা ছিল। কিন্তু দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং আর্থিক জটিলতার বিষয় সামনে আসার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মীদের সবসময় আমরা সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। ব্যক্তিগত ভুল সিদ্ধান্ত একজন কর্মীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানেরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বীরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আজ শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় বিষ্ণুকে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পাঠানো হয়েছে আদালতে।
আদালত সূত্র জানায়, একটি চেক ডিজঅনার-সংক্রান্ত মামলায় (এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা) বিষ্ণু সরকার দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায় কার্যকর করতে তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।




