শিবচরে বাড়ছে ডেঙ্গু, দুই মাসে আক্রান্ত ১১৪

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিবচর,মাদারিপুর। ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের শিবচরে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত দুই মাস ধরে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তের হার বাড়ছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্টরা জানান, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১৪ জন। তাদের বেশির ভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, তরুণ ও বয়স্ক নারী-পুরুষও রয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি অনেকে বাড়িতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আকলিমা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, জ্বর হওয়ার পর টেস্ট করালে রোগীর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। আকলিমা চার দিন ধরে এখানে ভর্তি। তার শরীর খুবই দুর্বল।
হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
আকলিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, হাসপাতালের পরিবেশ খুবই নোংরা। সেবাও তেমন ভালো না।
মোছা. জুলেখা নামে আরেক রোগীর স্বজন বললেন, ‘জুলেখা এখানে পাঁচ দিন ধরে ভর্তি। তার অবস্থা এখন একটু ভালো। প্লাটিলেট বাড়ছে। এক-দুই দিনের মধ্যে আরও সুস্থ হলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাব।’
ডেঙ্গুর পাশাপাশি শিবচরে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, সেপ্টেম্বর মাসে হামে আক্রান্ত ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ১৩৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাম আক্রান্ত পাঁচজন রোগী এখানে ভর্তি রয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীদের চাপও বেড়েছে। প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন। রোগীদের স্বজনরা জানান, জ্বরের সঙ্গে শরীরে তীব্র দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেছেন, ‘গত দুই মাস ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেড়েছে। চলতি মাসেও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর থেকে আশাকরি কমবে। আমরা সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। ডেঙ্গুর পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। তবে আমাদের এখান থেকে রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।’




