আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ
সেই সেতু পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক
- ৩ বছরেও চালু হয়নি ১০ কোটি টাকার ব্রিজ

ছবি: আগামীর সময়
নরসিংদীর মনোহরদী ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু। সেই প্রত্যাশা পূরণে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সেতুটি। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার তিন বছর পরও এটি চালু হয়নি। দুই পাশে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
গত ১৭ মে ‘১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু, নেই রাস্তা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক আগামীর সময়। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাপাসিয়া ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার সিংগুয়া-আশাদনগর অংশে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক, ঢাকা বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এবং নরসিংদীর প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সড়ক নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেন তারা।
২০২২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর ও কাপাসিয়া উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এখন কার্যত অচলাবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি।
বর্তমানে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রশি ধরে নৌকায় নদী পারাপার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় জানালেন স্থানীয়রা।
‘সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছর আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু রাস্তার কাজ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও সেতুটি কোনো কাজে আসছে না’— ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন কাপাসিয়ার বাগুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল।
একই সুরে ক্ষোভ ঝাড়লেন সিংগুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাজেদুল হক। বললেন, ‘ওপারের অনেক শিক্ষার্থী তাদের স্কুলে পড়াশোনা করে। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো কষ্ট করে করতে হচ্ছে যাতায়াত।’
সব সময় মাঝি পাওয়া যায় না। রশি ধরে নৌকায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঝুঁকিতে পড়তে হয়। এত বড় সেতু নির্মাণের পরও মানুষ ব্যবহার করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করলেন মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. জালাল উদ্দিন।
সেতু দ্রুত চালু করার উদ্দেশে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের তদন্ত দল এসেছিলেন বলে জানালেন মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা। বললেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে সড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনাও এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে পাঠানো হয়েছে সংশোধিত প্রস্তাব।
‘মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে’— উল্লেখ করেন নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশা।
উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনূর্ধ্ব-১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. রেফফাত নূর জানান, সংযোগ সড়কের জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রকল্প পরিচালক।







