পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কাঁকড়া খালে সেতু নির্মাণ

ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাঁকড়ার খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ শেষ হয়নি পাঁচ বছরেও। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে খাল পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ-করটিয়াপাড়া বাজারের উত্তর পাশে কাঁকড়ার খালের ওপর ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে সেতুর।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সরকারের শক্তিশালীকরণ প্রকল্প ও উপজেলা-ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৩১ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স মাইন উদ্দিন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কাজের একটি অংশ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখে এবং পরে অসমাপ্ত অবস্থায় প্রকল্প ছেড়ে চলে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন সেতুর পাশে স্থানীয় উদ্যোগে তৈরি কাঠ ও বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে মানুষ পারাপার করছে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের খালের একপাশে নেমে হেঁটে সাঁকো পার হয়ে অন্য পাশে গিয়ে যানবাহনে উঠতে হচ্ছে।
সেতুটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে চতলবাইদ করটিয়াপাড়া কামিল মাদ্রাসা ও হাজী হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া করটিয়াপাড়া, কালিদাস, ঠকানিয়াপাড়া ও ফুলজুড়িপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় তাদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কালিদাস খলিলুর রহমান মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মুরাদ হাসান ও ফাহিম খান জানিয়েছেন, প্রতিদিন অস্থায়ী সাঁকো পার হয়ে কলেজে যেতে হয়। সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হলে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী ওয়াজেদ আলী খান বলেছেন, আগে সখীপুর থেকে পণ্য কিনে সরাসরি এই সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরতেন। এখন তাকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়, ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়েছে।
চতলবাইদ এলাকার বাসিন্দা ও সোনার বাংলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জুলহাস মিয়া জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, সখীপুর থেকে চতলবাইদ পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণ হলেও মাঝখানের সেতুটি অসমাপ্ত থাকায় পুরো সড়কের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
চতলবাইদ করটিয়াপাড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার জানিয়েছেন, শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন অস্থায়ী সাঁকো পার হয়ে মাদ্রাসায় আসে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তার বলেছেন, সেতুটি চালু হলে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
এলজিইডির সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ শেষ করানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।




