খামারি অ্যাপের সুপারিশের চেয়েও বেশি সার দাবি কৃষকের
- উভয়সংকটে দিনাজপুরের ডিলাররা

আসছে শাকসবজি ও আগাম রবিশষ্যের মৌসুম। ছবি: সংগৃহীত
চলছে শরৎকাল। আসছে শাকসবজি ও আগাম রবিশষ্যের মৌসুম। ঘনিয়ে আসছে ফসলের জন্য বীজতলা তৈরির সময়। তবে চিন্তার ভাজ কৃষকের কপালে। জমি প্রস্তুতের জন্য মিলছে না চাহিদামাফিক সার।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘খামারি’ অ্যাপের সুপারিশের বাইরে সার দিচ্ছেন না ডিলাররা। এদিকে একেক জমির উর্বরতা একেক রকম হওয়ায় সারের পরিমাণও হচ্ছে কমবেশি। ফলে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের কৃষকরা।
এদিকে ডিলারদের দাবি, সার বিক্রি নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছেন তারা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘খামারি’ অ্যাপে সুপারিশ করা পরিমাণের বাইরে বিক্রি করা যাচ্ছে না সার। এতে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে তাদের মধ্যে।
ডিলারদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা মেনেই তাদের সার বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে মাঠপর্যায়ে কৃষকের বাড়তি চাহিদা থাকলেও নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু অনেক কৃষক দীর্ঘদিনের চাষাবাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অ্যাপে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সার দাবি করছেন। এ কারণে সার বিক্রির সময়ই তৈরি হচ্ছে বিরোধ।
উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের সার ডিলার ইশতিয়াক আহম্মেদ খান বলেন, তারা সরকারি নিয়ম মেনেই সার বিক্রি করতে চান। কিন্তু নিয়ম মানতে গিয়ে কৃষকদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সারের ক্ষেত্রে এই চাপ বেশি। তার ভাষ্য, ‘খামারি’ অ্যাপে বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ কেজি টিএসপি ব্যবহারের সুপারিশ থাকলেও অনেক কৃষক ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সার নিতে আসেন।
ঘোড়াঘাটে ১৯ জন সার ডিলার রয়েছেন। তাদের জন্য প্রতি মাসে টিএসপি সারের বরাদ্দ ১৩৫ টন। ফলে অ্যাপের সুপারিশ ও কৃষকের বাড়তি চাহিদার বিরোধের পাশাপাশি বরাদ্দ নিয়েও চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিলাররা।
তবে কৃষকদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, একেক জমির মাটির উর্বরতা একেক রকম। আগের মৌসুমে কোন ফসল হয়েছে, কত বছর ধরে জমিতে চাষ হচ্ছে এবং জমির উৎপাদনক্ষমতা কেমন, এসব বিষয়ও সারের চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলে।
অবশ্য কৃষি বিভাগ বলছে, মাটির গুণাগুণ ও ফসলের প্রয়োজন বিবেচনা করেই সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করলেই ফলন বাড়বে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং অতিরিক্ত সার ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এতে মাটির গুণাগুণও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান জানান, উপজেলায় এবার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। ফসলের ধরন, জমির মাটির গুণাগুণ ও প্রয়োজন বিবেচনা করেই ‘খামারি’ অ্যাপে সারের সুপারিশ করা হয়। অতিরিক্ত সার ব্যবহারে লাভবান হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা।






