প্রকৃতি
তিনশ বছর ধরে সুবাস ছড়াচ্ছে কাঠগোলাপ গাছ

বিশাল বিশাল কাণ্ড নুয়ে আছে মাটিতে। দূর থেকেই বোঝা যায় বৃক্ষটি কয়েক শতাব্দীর পুরনো। বিশাল কাণ্ডের ভেতরে গর্তের সৃষ্টি, একদিক থেকে দেখা যায় আরেকদিক। ছড়িয়ে থাকা কাণ্ডগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটি মূলগাছ। পাতা ও ফুল দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় এটি কাঠগোলাপ গাছ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩০০ বছর ধরে ফুলের সুবাস ছড়াচ্ছে ৫০ শতাংশ জমির ওপর ছড়িয়ে থাকা গাছটি।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহাড় অনন্তপুর গ্রামে দেখা যায় গাছটি। সবুজে ঘেরা গ্রামীণ লাল মাটির আঁকাবাঁকা মেঠোপথ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দিয়ে ৩০০ মিটার যেতেই হাতের ডান পাশে দেখা যায়, ডালপালা ছড়িয়ে আছে বিশাল জায়গা নিয়ে। প্রাচীন গাছটি দেখতে লোকজন আসে দূরদূরান্ত থেকে।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় ৫০ শতাংশ জমির চারদিকে পিলারের ওপর গ্রেড বিম করা। ভেতরে একটি কাঠগোলাপগাছ। বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। গাছের বিশাল ডালগুলো মাটিতে নুয়ে পড়ে আছে। ডালের ওপর দিয়ে মাটি ভরাটের কারণে আলাদা গাছ মনে হয়। সবুজ পাতার মাঝখানে থোকায় থোকায় ধবধবে সাদা পাপড়ির মধ্যে গাঢ় হলুদ ফুল ফুটে রয়েছে। গাছটিকে ঘিরে স্থানীয় শিশু-কিশোররা খেলা করছে, গাছের ডাল বেয়ে ওপরে উঠছে, নামছে। গাছের গোড়ায় তিন ফুট উচ্চতার চারটি খুঁটি মাঝখানে মাটিতে ঢালাই করা একটি স্লাব বসানো। পাশেই ইটের তৈরি ছোট্ট একটি দানবাক্স রয়েছে। স্লাবসহ গাছের আশপাশে অসংখ্য কলাপাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানাচ্ছিলেন, একসময় এলাকাটি গহিন জঙ্গল ছিল, ১০০ বছর আগে কাঠগোলাপগাছের গোড়ায় ‘মকদম শাহ’ নামের এক ফকির আস্তানা গড়েছিলেন। তখন এখানে অনেক ফকির আনাগোনা করতেন। এখন ‘মকদম শাহ’র দরবার হিসেবে জায়গাটি পরিচিত। মনের বাসনা পূরণে ভক্তরা এসে কাঠগোলাপগাছের ডালে ডালে লাল ফিতা বেঁধে রেখে যায়। অনেক ভক্ত রান্নাবান্না করে খেয়ে গাছের গোড়ায় কিছু খাবার কলাপাতায় রেখে যায়।
পাহাড় অনন্তপুর গ্রামের সেলিম হোসাইন বললেন, আমার দাদা আমজাদ হাজি ছিলেন এ গ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। তার বয়স ছিল ১২০ বছর। সেও শুনেছে তার দাদার কাছে কাঠগোলাপগাছটি এখন যেমন দেখতে, আগেও তেমনই ছিল।
সত্তরোর্ধ্ব মো. হাছেন আলী বলেছেন, ‘কাঠগোলাপগাছটির বয়স কেউ সঠিক করে বলতে পারে না, বুঝমান হওয়ার পর থেকে এ রকমই দেখতেছি।’
রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুক্তারের ভাষ্য, কাঠগোলাপগাছটির বয়স ৩০০ বছরের ওপরে হবে। তবে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা কঠিন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাছটি দেখতে আসেন দর্শনার্থীরা।




