ফেনীতে তীব্র গ্যাসসংকট
এলপিজিতে কারখানা সচলের চেষ্টা

ফেনীতে আবারও তীব্র হয়েছে গ্যাসসংকট। গ্যাসের স্বল্পচাপে শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে গেছে, কোথাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম কারখানার চুল্লি ও ওভেন। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাস না থাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন পরিস্থিতিতে চড়া দামে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন শিল্পমালিকরা। এতে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে খরচ। ফলে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে রান্নাঘর— সবখানেই পড়ছে গ্যাসসংকটের প্রভাব। ফেনী শহরের গোডাউন কোয়ার্টার এলাকায় ছোট আকারের বেকারি কিষাণ ফুডস। এখানকার বিস্কুট, পাউরুটি, বান ও কেক শহরের বিভিন্ন ছোট দোকানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত এক সপ্তাহে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কমেছে ৫০-৬০ শতাংশ। উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে না যায়— সেজন্য চড়া দামে এলপিজি কিনে কোনোমতে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কিষাণ ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিবুল হক চৌধুরী রাসেল বললেন, ‘অল্প কিছু পণ্য এলপিজি দিয়ে উৎপাদনের চেষ্টা করছি। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে তিন গুণ। কিন্তু ক্রেতা ধরে রাখার জন্য নিরুপায় হয়ে নির্ভর করতে হচ্ছে এলপিজির ওপর।’
একই সংকটের প্রভাব পড়েছে ফেনী বিসিক শিল্প এলাকার জারা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডেও। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান টিটু জানালেন, তাদের বেকারিতে উৎপাদন কমে গেছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। জরুরি শিশুখাদ্য সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য বলছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কমে গেছে গ্যাসের। এর প্রভাবে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরে স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ কমে যাওয়া এবং চট্টগ্রামের এলএনজি টার্মিনালের সমস্যা পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক মো. আখতারুজ্জামানের ভাষ্য, ‘সার্বিকভাবে কমে গেছে গ্যাসের উৎপাদন। এর ওপর বৈরী আবহাওয়া এবং এলএনজি টার্মিনালের সমস্যা পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় কাটছে না সংকট। তবে চেষ্টা চলছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার।’






