কেসিসির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম
অতিরিক্ত শ্রমিক হাজিরা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত শ্রমিকের হাজিরা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী কেসিসি ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ্ আল-ইমরানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের বৃক্ষরোপণ কমিটি গঠন করা হয়।
মাঠ পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার কমিটির সদস্যরা নগরীর বাস্তহারা বস্তি ও বাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় কেসিসির চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আকস্মিক পরিদর্শন করেন।
এ সময় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শ্রমিকের হিসাব সংরক্ষণকারী এবং কেসিসির সহকারী এস্টেট অফিসার (সম্পত্তি শাখা) মো. শেখ মাসুদ আলীর কাছে উপস্থিত শ্রমিকের সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে, তিনি ৩৩ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছে বলে জানান।
কিন্তু সরেজমিনে তারা ২৯ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখেন। কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবেই চারজন শ্রমিকের ভুয়া হাজিরার অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এ ঘটনার পর গত ১৩ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। অফিসিয়াল হাজিরা শিটের সঙ্গে লেবার সরদারের ব্যক্তিগত নোট বুকের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়।
এতে দেখা যায়, লেবার সরদারের নোট বুকের প্রকৃত হাজিরার সঙ্গে অফিসিয়াল হাজিরার ব্যাপক গড়মিল রয়েছে।
সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাইয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া লেবার দেখিয়ে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই জালিয়াতির বিষয়ে শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানকারী কেসিসির মাস্টাররোল কর্মচারী (নো-ওয়ার্ক-নো-পে) ও বর্তমানে অফিস সহকারী (সম্পত্তি শাখা) মো. ইমতিয়াজ হোসেন এবং হিসাব সংরক্ষণকারী ও সহকারী এস্টেট অফিসার (সম্পত্তি শাখা) মো. শেখ মাসুদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। যার কারণে কেসিসির সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্ব অবহেলা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে জালিয়াতি এবং আর্থিক দুর্নীতির ফলে কেসিসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত শ্রমিকের হাজিরা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন, কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বৃক্ষরোপন কমিটির আহবায়ক আব্দুল্লাহ্ আল-ইমরান।
লিখিত অভিযোগের অনুলিপি কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, চিফ প্লানিং অফিসার, ভেটেরিনারি অফিসার ও কেসিসির প্রশাসককে অবগতির জন্য সিএ টু প্রশাসক, বরাবর দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেসিসির সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।







