ঈদ সামনে, জমে ওঠছে শিবচরের পশুর খামার

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার খামারগুলোতে এখন চলছে ব্যস্ত সময়। ছোট-বড় শত শত খামারে কোরবানির পশু পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতিতে দিন-রাত কাজ করছেন খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, এবার শিবচরে ৬৬৫টি খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ২০০টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৯৮০টি গরু, কয়েকটি মহিষ এবং প্রায় ১০ হাজার ২৩০টি ছাগল ও ভেড়া। অথচ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১৯ হাজার। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় দুই হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে করা হচ্ছে ধারণা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন খামারে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও গরুকে গোসল করানো হচ্ছে, কোথাও দেওয়া হচ্ছে খাবার, আবার কোথাও ক্রেতাদের সঙ্গে চলছে দরদাম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা।
কাদিরপুর ইউনিয়নের ‘নাইম খান এগ্রো ফার্মে’ বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১৮০টি গরু, চারটি মহিষ, ২৪০টি ছাগল এবং কিছু ভেড়া। খামারের মালিক মশিউর রহমান মজিবর খান জানান, পাঁচ বছর আগে মাত্র ৩০টি গরু নিয়ে খামার শুরু করলেও এখন এটি পরিণত হয়েছে উপজেলার অন্যতম বড় খামারে।
তার ভাষ্য, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে করা হচ্ছে পশু পালন। কাঁচা ঘাস, ভুসি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হলেও এবার পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে অনেক। উৎপাদন খরচও আগের তুলনায় বেশি। তারপরও ভালো দামের আশা করছেন তিনি।
খামারি আরও জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা খামারে এসে পশু দেখছেন। কিছু পশু খামার থেকেই বিক্রি হচ্ছে, বাকিগুলো তোলা হবে স্থানীয় হাটে।
খামারের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন নিয়মিত পশুর খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে নিশ্চিত। পশুগুলো সুস্থ ও আকর্ষণীয় রাখতে সতর্ক রয়েছেন তারা।
শুধু বড় খামার নয়, উপজেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরাও এখন পার করছেন ব্যস্ত সময়। তবে পশুখাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকেই।
লিওন এগ্রো ফার্মের মালিক লিওন ঢালী বলছিলেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং অবৈধভাবে পশু আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভালো লাভ পাবেন খামারিরা। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়বে ইতিবাচক প্রভাব।
শিবচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র বোষ জানিয়েছেন, কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে পর্যাপ্ত পশু। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে মাঠ পর্যায়ে। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফা কামালসহ ১৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সেবা দিচ্ছেন খামারিদের। অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ হলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য দাম পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে কোরবানির পশু বিক্রিকে কেন্দ্র করে উপজেলার হাটগুলোতেও চলছে প্রস্তুতি। ভান্ডারীকান্দি সাহেবের হাটের ইজারাদার মেম্বার জুনায়েদ চোকদার জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা, জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতায় নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।




