শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানে বৈদ্যুতিক ফাঁদ, প্রাণ গেল শ্রমিকের

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা-এ লেবু বাগানে ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুনীল সাঁওতাল (৩৬) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বন্যশুকর প্রতিরোধে টানানো বিদ্যুতায়িত জিআই তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনের পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুনীল সাঁওতাল রাধানগর বস্তির মৃত রবিয়া সাঁওতালের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বাড়ির পাশের একটি লেবু বাগানে ঘাস কাটতে যান সুনীল। বাগানটি আলী আর্জুন নামে এক ব্যক্তি লিজ নিয়ে পরিচালনা করছিলেন। ঘাস কাটার সময় বাগানের ভেতরে টানানো বিদ্যুতায়িত জিআই তারের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বাগানের ফসল রক্ষা এবং পাহাড়ি বন্যশুকর প্রতিরোধে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা বাগানের একটি ছোট খালের পাশে বিদ্যুতের তারে জড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন রায় জানান, সকালে সুনীলের স্ত্রী তাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা জানালে তিনি বাগানে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়ানো অবস্থায় সুনীলের মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।
নিহতের ছোট ভাই মুনিল সাঁওতাল উল্লেখ করেন, ঘাস কাটতে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময়েও তার ভাই বাড়ি ফেরেননি। পরে খোঁজ করতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। তিনি জানান, সুনীলের সাত ও পাঁচ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে।
৩ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম লিটন জানান, বাগানের ফসল রক্ষা ও পাহাড়ি শুকর প্রতিরোধে বিদ্যুতায়িত আর্থিং ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই তারেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাগানের মালিক মো. আতিকুর রহমান জরিপ-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আর লিজগ্রহীতা আলী আর্জুন ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জানান পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুতায়িত তারের অস্তিত্ব পায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলছে।







