বাঁশপাতারও চা হয়!

এক সময় চা বাগান দেখতে যেতে হতো সিলেট। সেই চা এখন উৎপাদন হচ্ছে পঞ্চগড়সহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু নতুন কথা হলো চায়ের গাছের পাতা নয়-বাঁশপাতা থেকেও চা হয়। বাঁশপাতা থেকে পরিবেশবান্ধব চা তৈরির উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুই শিক্ষার্থী। বিজয়ী হিসেবে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা এক লাখ টাকার ফান্ডও পাবেন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ২৩৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা এ সাফল্য অর্জন করেন। বিজয়ী দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মাইদুল ইসলাম মাহিদ ও আজিজুল ইসলাম। তারা যৌথভাবে বাঁশপাতা ব্যবহার করে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনের ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁশপাতার সম্ভাবনাময় ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে এ উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন মাহিদ। পরে সহপাঠী আজিজুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আবেদন করেন তিনি।
বাছাইপর্ব পেরিয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজেদের ধারণা উপস্থাপন করেন তারা। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ইউনিলিভার, গ্রিন ভয়েস, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
মাইদুল ইসলাম মাহিদ আগামীর সময়কে বলেন, আমরা ভাবছিলাম বাংলাদেশে বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করা যায় কি না। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আজিজুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করি। পরে নির্বাচিত হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নিই। শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করতে পেরেছি।
বাঁশপাতা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এতে সিলিকা, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমরা বাঁশপাতার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব চা বাজারে আনতে চাই, যোগ করেন তিনি।
উদ্যোক্তাদের মতে, বাঁশপাতার চা স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের জন্য বিকল্প পানীয় হিসেবে সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এর পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগিতা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবান্ধব চা তৈরির উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করায় বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন। তাদের এই গৌরবময় অর্জন আমাদের বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।



