রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রসাটম জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য এই সরবরাহ শুরু হয়েছে। রসাটমের ফুয়েল ডিভিশনের অধীন নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান সম্প্রতি বিশেষ কার্গো বিমানে বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
এর আগে, প্রথম ইউনিটের প্রথমবার জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন পারমাণবিক জ্বালানি সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। রিঅ্যাক্টরের প্রথম জ্বালানি চক্র সম্পন্ন হওয়ার পর এই জ্বালানি দিয়ে রিফুয়েলিং বা পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের কাজ করা হবে।
রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানির কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সংরক্ষণাগারে নেওয়া হয়। প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও পারমাণবিক নিরাপত্তার শর্ত পূরণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির বাধ্যতামূলক দৃশ্যমান ও যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হবে।
রসাটম জানিয়েছে, পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তার বিধি কঠোরভাবে মেনে বাংলাদেশ, প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা পরিচালনা করবে।
প্রকল্প সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের কোরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করে। এরপর চলতি মাসে রিঅ্যাক্টরটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডে সংযোগ এবং পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার আগে প্রথম ইউনিটকে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এ জন্য রিঅ্যাক্টরের শক্তি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে রাশিয়ার নকশায় তৈরি তৃতীয় প্রজন্মের প্লাস (জেনারেশন ৩+) প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে। কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটির প্রধান নকশাকার ও ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন।



