ঢোলের বাড়ি আর লাঠির ছন্দে সাটুরিয়ায় ঈদের বাড়তি আনন্দ

ছবি: আগামীর সময়
প্রযুক্তির জোয়ারে যখন গ্রামীণ ঐতিহ্যগুলো ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে ফিরে এলো হারানো দিনের সেই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন শনিবার (৩০ মে) উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৈজুরী গ্রামে বসেছিল লাঠিয়ালদের এই মিলনমেলা। কৈজুরী নব কল্লোল যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
দুপুর গড়াতেই কৈজুরী গ্রামের অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ নারী-পুরুষ—সবার উপস্থিতিতে চিরচেনা গ্রাম্যপ্রান্তর রূপ নেয় এক বর্ণিল উৎসবে। এবারের আয়োজনে দর্শকদের মূল আকর্ষণ ছিল উপজেলার জান্না গ্রাম থেকে আসা লাঠিয়াল দল। ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের মনোমুগ্ধকর কসরত, শৈল্পিক প্রদর্শনী আর লাঠিযুদ্ধের নান্দনিক কৌশল দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধরে রাখে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই রোমাঞ্চকর লড়াই চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
খেলা দেখতে আসা দেলোয়ার হোসেন নামের এক স্থানীয় দর্শক বললেন, 'আধুনিক বিনোদনের যুগে এমন লোকজ আয়োজন আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। এগুলো নিয়মিত হলে তরুণদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।'
আয়োজকদের উদ্দেশ্য ছিল ঠিক একই রকম— শিকড়কে ভুলে না যাওয়া। কৈজুরী নব কল্লোল যুব সংঘের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. মাসুদ রানা বললেন, ‘ঈদের খুশির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানালেন, ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই মূলত এই লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাদের ভবিষ্যতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।
আয়োজকদের মতে, গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলা কেবলই বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন কৈজুরী নব কল্লোল যুব সংঘের সভাপতি মো. আব্দুর রউফ। সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এই আনন্দঘন উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে এমন একটি দিন সাটুরিয়াবাসীর ঈদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন এক টুকরো গ্রামীণ সজীবতা হয়ে থাকবে।






