পার্বতীপুরে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ
ভাগবাটোয়ারার চুক্তি চেয়ারম্যান-মেম্বারের

নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘লভ্যাংশ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল এক চুক্তিপত্রে। ছবি। আগামীর সময়
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর নিয়ে কাজ ও অর্থের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল চেয়ারম্যানের হাতে। এমনকি প্রকল্প শেষে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘লভ্যাংশ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল এক চুক্তিপত্রে। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত ওই চুক্তিপত্রে চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরও রয়েছে। যদিও চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর প্রশাসন বলছে, এ ধরনের ব্যবস্থা আইনসম্মত নয়।
ইউনিয়নের মেম্বার আজাহার আলী ও মিজানুর রহমান দাবি করেন, চেয়ারম্যানের উদ্যোগে প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে একটি চুক্তিনামায় নেওয়া হয় স্বাক্ষর। যার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যত চলে যায় চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণে।
তাদের ভাষ্য, হাট-বাজার উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সরাসরি কোনো কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবেন না বলে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল; বরং চেয়ারম্যান নিজ দায়িত্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত ব্যাংক চেকেও সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে তা চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার শর্ত রাখা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে প্রতিটি প্রকল্প সভাপতিকে ৬৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও চুক্তিপত্রে উল্লেখ ছিল। সদস্যদের দাবি, মোট ৯ জন সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত মূল স্ট্যাম্পটি চেয়ারম্যান নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছেন।
চুক্তিপত্র নিয়ে বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার পর আমবাড়ী বাজারের পল্লী চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
তিনি বলেছেন, ‘অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও মোস্তফাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান প্রামাণিক তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, ‘কোন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেছেন, তাদের আমার সামনে নিয়ে আসবেন।’ তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতেও রাজি হননি তিনি।
মোস্তফাপুর ইউপির হিসাব সহকারী শরিফুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নে ১১ দশমিক ৫ টন চাল ও ১১ দশমিক ৫ টন গমের কাবিখা কর্মসূচি, ২০ লাখের কাবিটা প্রকল্প এবং ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার টিআর প্রকল্পের কাজ চলমান। এ ছাড়া উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের ১৭ লাখ ৯৪ হাজার এবং হাট-বাজার উন্নয়ন তহবিলের ৪৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এখনো ইউপিতে হিসাবে জমা না হওয়ায় শুরু হয়নি প্রকল্পগুলোর কাজ।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেন বললেন, ‘সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যদের ক্ষমতা সীমিত করে এ ধরনের চুক্তি করা আইনসম্মত নয়।’
‘এটি অবশ্যই বেআইনি কর্মকাণ্ড। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ইউপি সদস্যদের, চেয়ারম্যানের নয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য আমার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান’— বললেন তিনি।




