চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ, যুবদল নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: আগামীর সময়
চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে মুদি দোকানে আটকে রেখে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও নগদ ২৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি পাবনার সুজানগরের।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মোতালেব হোসেন।
এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের ঘোড়াদহ কাঞ্চন বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোতালেব হোসেন ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মোতালেবের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন সকালে মোতালেব ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে ঘোড়াদহ কাঞ্চন বাজারে তার বহনকারী অটোভ্যানের গতিরোধ করা হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাকের মুদি দোকানে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার ব্যাগে থাকা ২৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আরও ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর ভাতিজা মো. মোস্তাক আহম্মেদ বাদী হয়ে সুজানগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি সুজানগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা প্রামানিক (৪০)। অন্য নামীয় আসামিরা হলেন লোকমান মৃধা (৪৫), সুজন শেখ (৩৩), সজীব শেখ (২৫) ও জহুরুল ইসলাম (৩৫)।
মামলার বাদী মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আমার চাচা অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পরিবারকে উত্ত্যক্ত ও চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিন প্রকাশ্যে তাকে তুলে নিয়ে দোকানে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, ‘ঘটনার আগের রাতে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে মোতালেব অংশ নিয়েছিলেন। সে কারণে হয়তো স্থানীয় কিছু ছেলে তাকে ধরেছিল। কিন্তু তাকে নিজের দোকানে আটকে মারধর বা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।’
ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ অভিযানে গেলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। তবে দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।



