গজারিয়ার ৪০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ পূরণ না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২৩ জন। এ ছাড়া ২৪টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা। বাকি ৪০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৪১টি পদও খালি রয়েছে।
এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ১১ হাজার ১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে বালক ৫ হাজার ৩৪৯ এবং বালিকা ৫ হাজার ৬৬৯ জন।
সরেজমিন উপজেলার ভিটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, বদলি ও অবসরের কারণে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার জানান, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে একজন সহকারী শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট তৈরি হয় এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়।
তিনি আরও জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দাপ্তরিক কাজে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।
এদিকে সন্তানদের শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন জানান, প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পদগুলো পূরণের জন্য এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে হালনাগাদ তথ্যও পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এমন সহকারী শিক্ষকদের তালিকাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।






