বুকসমান কাদায় ৬ মাস বেঁধে রাখা সেই ৪ মহিষ উদ্ধার

এভাবেই ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদায় বাঁধা ছিল চারটি মহিষ। ছবি: আগামীর সময়
প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে বাঁধা অবস্থায় ছিল চারটি মহিষ। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন।
পরে গত রবিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে রাখা হয়েছে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে।
প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন বিষয়টি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নজরে আনেন। পরে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চারটি মহিষকে প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে বেঁধে রেখেছিলেন গোকুলনগর গ্রামের আব্দুল আলিম। প্রায় ২৪ ঘণ্টাই মহিষগুলোকে কাদার মধ্যে থাকতে হতো। সেখানেই তাদের খাবার খেতে, দাঁড়িয়ে থাকতে ও ঘুমাতে হতো।
মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার জন্য মালিককে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তাদের অবিযোগ।
গত রবিবার দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে নাজমুল হোসেন প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি মহিষগুলোর করুণ অবস্থা দেখতে পান। পরে কাদার মধ্যে আটকে থাকা মহিষগুলোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ঘটনাটি ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে। তিনি নাজমুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানতে চান। সন্ধ্যার দিকে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় চারটি মহিষকে বুকসমান কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে মহিষগুলোর মালিক আব্দুল আলিম উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান।
ইউএনও সাজ্জাদ হোসেন মহিষগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিককে ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাজমুল হোসেন বলেছেন, ‘প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।’
তিনি আরও বলেছেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনও দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে একই দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষগুলোকে কাদা থেকে বের করে শুকনা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য শুকনা, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।







