আগামীর সময়ে সংবাদ
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

অভিযুক্ত শিক্ষক
পাবনায় নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগে শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মুসাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় দৈনিক আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদীর মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার।
তিনি জানান, বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা আয়েশা আক্তারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী শিক্ষক মিলন কাজী ও মান্নান হোসেন এবং অভিভাবক সদস্য টিটু ফকির ও সানাউল্লাহ।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশাররফ হোসেন মুসার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে গেলে প্রথমে তিনি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান। পরে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে গোপনে তাদের বিয়ে হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ের পর ওই শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের বাড়ি থেকে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেন। ফলে ক্লাস না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান তিনি।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে সন্তানের সমতুল্য। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, একাধিক শিক্ষক নেতার তদবিরের কারণে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



