সিংগাইর
নানা আয়োজনে ভাষাশহীদ রফিকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

ছবি: আগামীর সময়
মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদের শততম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তার জন্মভূমি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার রফিকনগরে তিন দিনব্যাপী মেলা, কেক কাটা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আজ শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের রফিকনগরে শহীদ রফিক মঞ্চে ‘ভাষা শহীদ রফিক স্মৃতি পরিষদ’র উদ্যোগে জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি শহীদ রফিকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে জন্মশতবার্ষিকীর কেক কাটেন।
ভাষাশহীদ রফিকের অনুজ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক জগদীশ চন্দ্র মালোর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন কবির, একুশে পদকপ্রাপ্ত কাওসার চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মফতেজুর রহমান এবং শহীদ রফিকের ভাতিজা আবদুর রউফ, মিজানুর রহমান, আওলাদ হোসেন, আসাজ্জামান ও শাহিনুর রহমান।
এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শহীদ রফিকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাসভা শেষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রফিক উদ্দিন আহমেদ। তার বাবা আবদুল লতিফ এবং মা রাফিজা খাতুন। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
১৯৪৯ সালে স্থানীয় বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন তিনি। পরে ঢাকায় গিয়ে বাবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। তার জন্মস্থান পারিল গ্রামটি বর্তমানে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘রফিকনগর’ নামে পরিচিত।
ভাষার জন্য আত্মত্যাগ
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নেন রফিক উদ্দিন আহমেদ। সেদিন ১৪৪ ধারা ভেঙে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন তিনি। পরে সামরিক বাহিনীর পাহারায় রাতের আঁধারে তাকে ঢাকা আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর।
ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে। তার স্মৃতি সংরক্ষণে জন্মভূমি রফিকনগরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর’।
শত বছর পেরিয়েও মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শহীদ রফিকের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।




