শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল
২০ বছর পর চালু...

বগুড়ায় শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অধীনে হাসপাতালটি নির্মাণ হলেও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় পড়ে স্থবির হয়েছিল এত দিন। হাসপাতালের গেটের তালা খোলা হতো নিয়মিত। কিন্তু যেসব শিশুর সেবার উদ্দেশ্যে হাসপাতাল, সেটিই ছিল বন্ধ। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হাসপাতালে আলো দেখা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। বহির্বিভাগের পাশাপাশি শিশুদের দেওয়া হবে আন্তঃসেবাও।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের দত্তবাড়ী এলাকায় ২০০৬ সালে শুধু শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অধীনে নির্মাণ করা হয় এ হাসপাতালটি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ছিলেন এর তত্ত্বাবধানে। সে সময় শুধু শিশুদের চিকিৎসার জন্য তিনতলার হাসপাতাল স্থাপিত হলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে সচল করা সম্ভব হয়নি এর কার্যক্রম। তবে হাসপাতালে অ্যাজমা কেয়ার অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টার চালু করে দেওয়া হয় হাঁপানির ফ্রি চিকিৎসা।
এরপর ২০২৩ সালে ১৯ জানুয়ারি পরিকল্পনা নেওয়া হয় হাসপাতালটিকে মা, শিশু ও অ্যাজমা— তিন ধরনের চিকিৎসাসেবার বিষয়ে। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর অব্যবহৃত শিশু হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পুরোদমে যাত্রা শুরু করে হাসপাতালটি।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে রয়েছেন ছয়জন চিকিৎসক। আন্তঃবিভাগে শিশুদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি শয্যা। অান্তঃবিভাগ ছাড়া বহির্বিভাগে দেওয়া হবে মা, হৃদরোগ ও অ্যাজমা রোগের নিয়মিত চিকিৎসা।
এদিকে হাসপাতাল চালু হওয়ার খবরে অনেকে আসেন চিকিৎসা নিতে। এমনই একজন শামীমা বেগম। নাতনিকে নিয়ে আসেন পাশের বড়গোলা এলাকা থেকে। তার ভাষ্য, ‘নাতনিকে নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছি। বাড়ির কাছে আমরা যদি চিকিৎসাসেবা পাই, তাহলে তো খুবই ভালো হয়।’
শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল বললেন, ‘২০০৬ সালের পর রাজনৈতিক জটিলতার কারণে হাসপাতালটির শিশুসেবা চালু করতে পারিনি আমরা। তবে অ্যাজমা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো স্বল্প পরিসরে। এখন আমাদের হাসপাতালে ল্যাব থেকে শুরু করে সব সেবা থাকছে। আপাতত শয্যা কম। তবে খুব দ্রুত শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হবে। আমাদের এখানে ন্যূনতম খরচে সব ধরনের চিকিৎসা যাতে নিশ্চিত হয়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার ছিল বগুড়া। বর্তমান সরকার জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করতেই একটি মহল নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে এসব ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।’
হাসপাতালের উন্নয়ন নিয়ে প্রধান অতিথি আরও বলেছেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের ছয়তলা ভবনকে আটতলায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পাশের বহুতল ভবন অধিগ্রহণ করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে যুক্ত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। ভবিষ্যতে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে যা করার প্রয়োজন, সেটি করা হবে। পাশাপাশি এখানে সরকারি ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা করব।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির প্রমুখ।






