বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বার মরদেহ, হদিস নেই স্বামীর

বাঁয়ে গৃহবধূ আফরোজা ও ডানে তার মরদেহ দেখতে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: আগামীর সময়
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মরদেহ শ্বশুরবাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বাড়িতে পাওয়া যায়নি স্বামী ও তার পরিবারের কাউকে।
আজ সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মৃত গৃহবধূর নাম আফরোজা বেগম (১৮)। তিনি চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সঙ্গে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। ওই এলাকা কাজ করতেন দীন ইসলাম। তিনি প্রায়ই আফরোজাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের।
এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হন আফরোজা। গত রবিবার রাতে তিনি বাবা আলফেস আলীকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে’- এ কথা বলে ফোন কেটে দেন তিনি- জানালেন আলফেস।
কিছুক্ষণ পর দীন ইসলাম আলফেসকে ফোন করে জানান, আফরোজা মারা গেছেন। আজ সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে তার কাছে খবর আসে, কালীগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির উঠানে পড়ে আছে মেয়ের মরদেহ।
আফরোজার পরিবারের অভিযোগ, আজ সোমবার সকালে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার মরদেহ গাজীপুর থেকে দীন ইসলামের বাড়িতে আনা হয়। উঠানে মরদেহ ফেলে চলে যায় গাড়িটি। কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম অভিযোগ করেছেন, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছেন তার স্বামী। আফরোজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানিয়েছেন, মরদেহের সঙ্গে ঢাকার উত্তরা এলাকার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। সেসব কাগজে বিষপানে আফরোজার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ আছে। তবে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







