নদীভাঙনে ক্ষতির খবরই জানে না ত্রাণ বিভাগ
- বগুড়ায় বাঁধের ওপর বিদ্যালয়ের ‘আশ্রয়’

বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে আছে আরও দুটি বিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গত দুই মাসে শতাধিক ঘর বিলীন হয়েছে যমুনার ভাঙনে। শতবর্ষী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও হারিয়েছে নদীতে। বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে আছে আরও দুটি বিদ্যালয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় ক্ষতির পরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি সরকারি ত্রাণ বা পুনর্বাসন সহায়তা। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরে নেই নদীভাঙনের ক্ষতির কোনো তথ্য।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যমুনায় ভাঙন শুরু হলেও মে মাস থেকে তা ধারণ করে তীব্র আকার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ও কাজলা ইউনিয়নের চরাঞ্চল। চকরতিনাথ, নয়াপাড়া, বিঘাপাড়া, চরঘাগুয়া, শিমুলতাইড়সহ কয়েকটি গ্রামে অন্তত ১০০টি ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পাশাপাশি সোনাতলা উপজেলার পূর্ব সুজাইতপুর, সারিয়াকান্দির কামালপুর এবং ধুনটের শহরাবাড়ী এলাকায়ও দেখা দিয়েছে ভাঙন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙনে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি গত ১৬ মে পুরোপুরি চলে যায় নদীতে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিদ্যালয়ের টিনের চালা ও আসবাব সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, স্থায়ী অবকাঠামো আর রক্ষা করা যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাহ আলম বললেন, ‘নদীভাঙন এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। ভাঙনের কারণে বহু শিক্ষার্থীর পরিবার ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন স্থানে। কেউ বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ ঘর তুলেছেন নতুন জেগে ওঠা চরে। বাঁধে আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে নৌকায় করে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করেন স্থানীয় এক মাঝি।’
যমুনা থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আপাতত ভাঙন কিছুটা কমলেও আতঙ্ক কাটেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের শঙ্কা, এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত। কিন্তু যমুনা যখন ভাঙে, তখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা চলে যেতে পারে নদীতে।
অবশ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে র সারিয়াকান্দি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোহেল রানা জানিয়েছেন, চরঘাগুয়া, হাটশেরপুর, পূর্ব সুজাইতপুর, শিমুলতাইড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার মিটার বা তার বেশি অংশে নদীভাঙন হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি।
অবশ্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেনের বক্তব্য ভিন্ন। নদীভাঙনে কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে তথ্য নেই তার কাছে। এ বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।




