স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার দায়ে সাতক্ষীরায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরায় স্ত্রী সাবিনা ইসলাম ও শিশুকন্যা আয়েশা সিদ্দিকাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদার নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ রায়ের বিষয়টি আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। এ মামলার বাদী তার শাশুড়ি জাহানারা খাতুন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জাহানারা খাতুন তার মেয়ে সাবিনা ইসলামকে (২৬) আব্দুর রউফের সঙ্গে বিয়ে দেন। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
এজাহারে বলা হয়, আব্দুর রউফ তার মায়ের চিকিৎসার খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর আব্দুর রউফ নিয়মিত সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়িতে আসতেন এবং সকালে চলে যেতেন।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আব্দুর রউফ শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ওই রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে সাইকেলের শব্দে জাহানারা খাতুনের ঘুম ভেঙে যায়। পরে পাশের ঘরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকার নিথর দেহ দেখতে পান। এ সময় আব্দুর রউফকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির জবানবন্দিও ছিল বলে জানা গেছে।
মামলার বিচার চলাকালে জামিনে মুক্ত হয়ে আব্দুর রউফ পলাতক হন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিলেন।



