ফাঁসির দড়িতে ঝুলছিল কুশপুতুল, বুকে এনসিপির নেতাদের ছবি

ছবি: আগামীর সময়
মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের পৃথক তিনটি স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় তিন নেতার ছবিযুক্ত কুশপুতুল ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় কুশপুতুলগুলো টাঙিয়ে রেখে যায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। এনসিপির একটি পথসভার আগে এ ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাংনী-হাটবোয়ালিয়া রোডের গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে, র্যাব ক্যাম্পের অদূরে এবং স্থানীয় সবজি বাজারে কুশপুতুলগুলো ঝুলছিল। কুশপুতুলে লাগানো ছিল এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের ছবি। সঙ্গে লেখা ছিল ‘তরুণ সমাজকে ললিপপ হাতে ধরিয়ে দেশ নিল রসাতলে; এদের প্রতিহত করুন; এদের ঘৃণা করুন।’
গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আগামীর সময়কে জানালেন, সকালে স্কুলে আসার সময় তিনি গেটের সামনে কুশপুতুল ঝুলতে দেখেছেন। সেলিম নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ধারণা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে গাংনীতে এনসিপির একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, পথসভাকে কেন্দ্র করেই একটি গোষ্ঠী জনমনে প্রভাব ফেলতে বা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কে বা কারা এই কাজের পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট কিছু বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ বলেছেন, ‘আমার ধারণা দুষ্কৃতকারীরা এই কাজটি করেছে, যারা মূলত জুলাইয়ের চেতনাকে মুছে ফেলতে চায়। তবে এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে কেউ সফল হবে না। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেই দেশ সামনে এগিয়ে যাবে।’
তার আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে এ সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করবে।
এদিকে খবর পাওয়ার পর কুশপুতুলগুলো সরিয়ে ফেলেছে গাংনী থানা পুলিশ। ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানালেন, রাতের আঁধারে যেই বা যারা এ দুষ্কর্ম ঘটিয়ে থাকুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ এর মধ্যে কাজ শুরু করেছে।





