লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সড়কে নেমে এলেন এলাকাবাসী। ছবি: আগামীর সময়।
তীব্র গরমের মধ্যে টানা কয়েক দিনের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর বাজার এলাকার বাসীন্দারা। এর জেরে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার রাত ৮টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে রাত ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিষ্ঠ হয়ে শত শত মানুষ শরিফপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজুয়ান আনসারী বলছিলেন, ‘আমাদের এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র দুই-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। বারবার বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। বাধ্য হয়েই আমরা সড়কে নেমেছি।’
একই এলাকার শাহিন মিয়া উল্লেখ করেন, রাতের পর রাত বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘুমানো যায় না, ছোট ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা কোনো ঝামেলা চাই না, শুধু নিয়মিত বিদ্যুৎ চাই।
খবর পেয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত লোডশেডিং সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলছিলেন, ‘তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় আমরা ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।’
জামালপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম নূর মোহাম্মদ বলেছেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অবরোধকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে রাত ১০টার পর যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।’




