বিরোধী দলের ভাষা গণতান্ত্রিক নয় : মির্জা ফখরুল

রংপুরে এক অনুষ্ঠানে কথা বলছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: আগামীর সময়
‘বিরোধী দল এখন শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।’ এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রবিবার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি।
জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে এলজিআরডি মন্ত্রী বললেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও সংকটে থাকা প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে এত বড় একটি ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’
‘বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলছে, সেটি গণতন্ত্রের ভাষা না। কাজ করার আগেই আপনারা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন। আমরা সবাই গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলি, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেই, জনগণের প্রতিনিধিকে কাজ করতে দেই। তাহলে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারব’- মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।
‘ফ্যাসিবাদী শাসন শেষে দেশ গঠনের সুযোগ এসেছে। ফ্যাসিস্ট সময়ে ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা, ২০ হাজার মানুষকে হত্যা ও ১৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে। দেশে এখন সেই পরিস্থিতি নেই। দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে’- যোগ করেন তিনি।
দেশে জ্বালানি সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে দেশে একটি গ্যাস ও তেলের খনিও অনুসন্ধান করেনি। তারা বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল।
‘আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে তেল ও গ্যাসের কূপ খননের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে যার টেন্ডারও হয়েছে।’
তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে সেটার দাম বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে আমাদের তেল-গ্যাস আমদানিতে ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। অথচ দেশের মানুষ কিন্তু এক দিনও তেল-গ্যাস ছাড়া থাকেনি।’
সরবরাহ কিছুটা কমলে চরম সংকট দেখা যায়নি বলে জানান তিনি। ‘দেশে যেটুকু সংকট রয়েছে সেটি অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে। এ ছাড়া জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে’- বললেন তিনি।
মন্ত্রীর দাবি, চার-পাঁচ মাসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে নেওয়া হচ্ছে ধারাবাহিক উদ্যোগ।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে লিখতে না পারলেও এখন সত্য-মিথ্যা সবই লিখতে পারছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পত্রিকায় ইচ্ছামতো সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন। আর সোশ্যাল মিডিয়াতে তো যা ইচ্ছে তা-ই বলা হচ্ছে। এসব নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে রংপুর অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জনের কাছে ২৫টি চা দোকানঘর হস্তান্তর করা হয়। এ লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।







