চৌদ্দগ্রাম
চৌদ্দগ্রাম বিসিকে সন্ধ্যা হলেই বহিরাগতদের আনাগোনা, বাড়ছে চুরি

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা, চুরি এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর শিল্পনগরীর বিভিন্ন স্থানে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। পরিত্যক্ত প্লটগুলোতে বসে মাদক সেবন ও কেনাবেচার আসর। পাশাপাশি একের পর এক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কারখানার মালিকেরা। এতে শিল্পনগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিল্প মালিকদের দাবি, গত ১৫ দিনে শিল্পনগরীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বিসিক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ কয়েকটি কারখানায় চুরি হয়। এসব ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বিসিক কর্মকর্তা জাফর আহমেদ।
তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাপ্রহরী, আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীরা সহজেই এসব কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৯৮৬ সালে ১১ দশমিক ০৩ একর জমির ওপর ৮৫টি প্লট নিয়ে চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠিত হয়। বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এ শিল্পনগরীর বেশ কয়েকটি প্লট দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে রয়েছে। স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এসব পরিত্যক্ত জায়গা মাদকসেবী ও অপরাধীদের আনাগোনার নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে।
বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সহসভাপতি কাজী সালাউদ্দিন দুলাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পনগরীতে মাদক সেবন, কেনাবেচা ও চুরির ঘটনা ঘটছে। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নৈশপ্রহরী নিয়োগ করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এমনকি বিসিক মসজিদের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও চুরি হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি ও আলিফ ফুডের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার তার কারখানা থেকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
মেসার্স জমজম অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. জাবেদ হোসেন বলেন, তার কারখানায় একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা গ্রিল কেটে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে মোটর ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে গেছে। বিষয়টি মালিক সমিতির নেতাদের জানিয়েও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।




