ত্যাগের মহিমায় মুখর ষাটগম্বুজ, তিন জামাতে পাঁচ হাজার মুসল্লির ঈদের নামাজ

ছবি: আগামীর সময়
ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) তিনটি পৃথক জামাতে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মুসল্লি এই প্রাচীন মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের নামাজকে ঘিরে ভোর থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণ। বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ ঐতিহাসিক এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে ঈদের নামাজ আদায়ের আকুলতা নিয়ে ছুটে আসেন।
সকাল ৭টায় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ও প্রধান জামাত। এতে ইমামতি করেন খানজাহান (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খালিদ। এই প্রধান জামাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. মো. ফকরুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
প্রথম জামাত শেষে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জামাত। এতে ইমামতি করেন ষাটগম্বুজ মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম ও খতিব মো. নাসির উদ্দিন। এরপর সকাল ৯টায় তৃতীয় ও শেষ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুশ শরফ এতিমখানা ও মাদরাসার সুপার হাফেজ মাওলানা মো. এনামুল হক।
প্রতিটি জামাত শেষেই এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে দেশকে সব ধরনের রোগব্যাধি, সহিংসতা ও সামাজিক অপরাধ থেকে মুক্ত রাখার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা করেন মুসল্লিরা।
নামাজ শেষে সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন, 'ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা নির্যাতিত ও নিপীড়িত হচ্ছে, আমাদের তাদের জন্য দোয়া করতে হবে।'
'ঈদ শুধু আনন্দের নয়, ঈদ মানে ত্যাগ। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ত্যাগের কোনো বিকল্প নেই। মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব সংকট মোকাবিলা করতে হবে।' যোগ করেন তিনি।
এ সময় প্রবাসে পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূর দেশে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতিও বিশেষ শুভেচ্ছা ও সম্মান জানান তিনি।
ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় বিপুল সমাগমকে কেন্দ্র করে পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আনসার, জেলা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
ষাটগম্বুজ মসজিদ ছাড়াও বাগেরহাটের অধিকাংশ মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাগেরহাট পুরাতন কোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, আলীয়া মাদরাসা জামে মসজিদ, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, হরিণখানা জামে মসজিদ, সরকারি পিসি কলেজ জামে মসজিদ, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দরগাহ জামে মসজিদ, নাগের বাজার হাজী আরিফ জামে মসজিদ, সড়ক ও জনপথ জামে মসজিদ এবং সরুই মাদরাসা জামে মসজিদ। এসব স্থানেও স্থানীয় মুসল্লিরা উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেন।






