বাল্যবিয়ের পাঁচ মাস পর কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি গ্রামে শামিমা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র পাঁচ মাস আগে পাশের গ্রামের কিশোর সোহানের সঙ্গে শামিমার বিয়ে হয়। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হলেও দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। শামিমার বয়স ছিল ১৫ বছর, আর সোহানেরও পূর্ণবয়স্ক হয়নি।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। অভিমান, পারিবারিক চাপ ও ছোটখাটো বিরোধের কারণে কিশোরীটির জীবন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে।
বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর শামিমাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় অনেকেই মন্তব্য করেন, যে বয়সে একটি মেয়ের স্কুলের বই নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সেই তাকে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে।
বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে রোধে আইন থাকলেও গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতায় এখনো অনেক কিশোরী অল্প বয়সে বিয়ের বন্ধনে জড়াচ্ছে। সামাজিক চাপ, দরিদ্রতা, পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও সম্পর্কের কারণে বহু কিশোরীর জীবন বদলে যাচ্ছে অকালেই।






