ক্ষতির আশঙ্কায় আধাপাকা ফসলই ঘরে তুলছেন কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুরে টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে ক্ষতির আশঙ্কায় আধাপাকা ধান ও কাঁচা সয়াবিন কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। এতে তৈরি হয়েছে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি জমে আছে বোরো ধান ও সয়াবিনের ক্ষেতে। বিশেষ করে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন, টুমচর, শাকচর, ভবানীগঞ্জ ও লাহারকান্দি এলাকার পরিস্থিতি বেশি নাজুক। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ফসলি জমি। কোথাও কোথাও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে আধাপাকা ধান।
কৃষকদের ভাষ্য, ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে হঠাৎ বৃষ্টিতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। সামনে আরও বৃষ্টি হলে বাড়বে ক্ষতির পরিমাণও।
সদর উপজেলার কৃষক মো. বাহার বলেছেন, ঝড়ের কারণে পড়ে গেছে ধানগাছ। এতে রয়েছে ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা। আবার বৃষ্টি হলে ক্ষেত চলে যেতে পারে পানির নিচে। তাই বাধ্য হয়েই কেটে ফেলছেন আধাপাকা ধান।
চর রমনী মোহন ইউনিয়নের কৃষক নুর নবী মোল্লার ভাষ্য, যেসব ক্ষেতে পানি জমে আছে, সেখানে দেরি হবে ধান পাকতে। তবে দ্রুত পাকে শুকনো জমির ধান। একইভাবে সয়াবিন ক্ষেতেও পানি জমলে কমে যায় ফলন। এ সময় বৃষ্টি না হলে দ্রুত ঘরে তোলা যেত ফসল।
ধান কাটার খরচও বেড়ে গেছে বলে রয়েছে কৃষকদের অভিযোগ। পানির মধ্যে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে প্রতি একরে অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ২-৩ হাজার টাকা।
একই এলাকার কৃষক শাহ আলম জানিয়েছেন, বৃষ্টি শুরুর আগেই সয়াবিন কেটে রেখেছিলেন ক্ষেতেই। কিন্তু পরে পানি জমে ডুবে গেছে সয়াবিন। এতে পানি লাগলে শিকড় গজায় ও পচে যায়। শুকালেও ভালো থাকে না। বড় ধরনের লোকসান হয়েছে তার।
কৃষকেরা আরও বলছিলেন, ধানের খড় শুকানো নিয়েও পড়েছেন সমস্যায়। বৃষ্টিতে পচে গেছে খড়, যা গবাদিপশুর খাবার হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। ক্ষেতের পানি সরে গেলে পরিস্থিতি হবে স্বাভাবিক। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কাটা হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ ধান এবং ১৫ শতাংশ সয়াবিন। বৈশাখ মাসে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় ফসল পাকলে দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অধিদপ্তর বলছে, এ মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে বোরো ধান। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯২০ টন। সয়াবিন আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে, যার লক্ষ্যমাত্রা ৮৭ হাজার ২০০ টন।
তবে মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অনেক বোরো জমিতে এবার চাষ হয়েছে সয়াবিন। আবার মৌসুমের শুরুতে পানির অভাবে খালি পড়ে ছিল অনেক জমি। এসব জমিতে কোনো আবাদ হয়নি ফসল।
কৃষকদের অভিযোগ, ফসল আবাদে কৃষি বিভাগে পাননি তেমন উৎসাহও। নানা সমস্যার কারণে এ বছর ধান ও সয়াবিনের উৎপাদন আগের তুলনায় হয়েছে কম। বর্তমান আবহাওয়ার কারণে তা কমতে পারে আরও






