গোবিন্দগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ৩৭ হাজার পশু

ছবি: আগামীর সময়
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৭৪টি পশু। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত প্রায় ৭ হাজার ৭৫০টি পশু পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে সরবরাহ করা যাবে বলেও আশা সংশ্লিষ্টদের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, এবার গোবিন্দগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২৯ হাজার ২৪টি। এর বিপরীতে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ২ হাজার ৭৫০ খামারি এবং ১০ হাজার প্রান্তিক কৃষক মিলে প্রস্তুত করেছেন ৩৬ হাজার ৭৭৪টি পশু।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার ৪১২টি গরু, ৬১টি মহিষ, ২২ হাজার ২৩৬টি ছাগল, ১ হাজার ৬৫৮টি ভেড়া এবং ৪০৭টি অন্যান্য পশু।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভাষ্য, কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধার্থে উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে আটটি পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে হাটের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
খামারিরা জানিয়েছেন, সারা বছর কঠোর পরিশ্রম ও বেশি দামে পশুখাদ্য কিনে পশু লালন-পালন করেছেন তারা। তবে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে প্রবেশ করলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে থাকবে শঙ্কা। স্থানীয় বাজারে বাইরের গরু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারির দাবি তাদের।
পৌর এলাকার ববনপুর গ্রামের খামারি আবু জিহাদ রণি জানান, এবার তার খামারে শতাধিক গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার কেজি ওজনের গরুও রয়েছে।
হুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের পারগয়রা গ্রামের খামারি ফারুক কবির বলছেন, তার খামারে ২৫০ কেজি পর্যন্ত ওজনের গরু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা এবং এর বেশি ওজনের গরু ৩০০ টাকা কেজি দরে।
কোরবানির পশু প্রস্তুতে পিছিয়ে নেই প্রান্তিক কৃষকরাও। সাপমারা গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কৃষিকাজের পাশাপাশি কয়েকটি গরু লালন-পালন করেছেন তিনি। প্রতিটি গরুর সম্ভাব্য দাম হতে পারে এক লাখ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদের ভাষ্য, নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে উপজেলার দুই হাজারের বেশি খামারি ও ১০ হাজার প্রান্তিক কৃষককে। তার ভাষ্য, চাহিদার তুলনায় উপজেলায় পর্যাপ্ত পশু মজুদ রয়েছে। তবে বিদেশি গরু প্রবেশ বন্ধ থাকলে লাভবান হবেন স্থানীয় খামারিরা।




