অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে বাঁধ

উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের দুধকুমার নদ চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের বুকে ধরা পড়েছে অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়াবহ চিত্র। তিনটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম।
উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা দুধকুমার নদ। দূর থেকে তাকালে মনে হবে নদে উন্নয়নের কাজ চলছে। কিন্তু কাছে গেলেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের নিয়মনীতি ছাড়াই একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম এই তিন ব্যক্তি দুধকুমার নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এতে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদের তীর রক্ষা বাঁধ।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, ওই এলাকায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে শূন্য দশমিক ৫ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঠিক পাশেই খননযন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
৮ থেকে ১০টি ভটভটি প্রতিদিন বালু পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রতি ভটভটি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বালু বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী, সেতু, বাঁধ, কালভার্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, তীর রক্ষা বাঁধের খুব কাছেই এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষায় বাঁধ ধসে পড়তে পারে এবং তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ও বাপাউবো নির্মিত ব্লকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে পুরো এলাকার বসতভিটা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এই কার্যক্রম চলছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম স্বীকার করেন, তাদের কোনো সরকারি অনুমতি নেই। তবে তিনি দাবি করেন, বালু উত্তোলন করে স্থানীয়দের বাড়ির ভিটা উঁচু করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন আগামীর সময়কে জানান, বালু উত্তলোনের বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
এদিকে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, এ ধরনের বিষয় ভ্রাম্যমাণ আদালত বা প্রশাসনের নির্দেশনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।

