শ্রীমঙ্গল
প্যাকেজিং পলির সংকটে বন্ধ স্কুল ফিডিং

সংগৃহীত ছবি
মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য চালু থাকা স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু শিক্ষার্থীরা। টানা তিন দিন ধরে ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী টিফিন ছাড়াই স্কুলে আসছে। কেউ কেউ বিদ্যালয়ের আশপাশের দোকান থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে।
সরকার অনুমোদিত বিএসটিআই সনদপ্রাপ্ত প্যাকেজিং পলির সংকটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, অনুমোদিত পলির সংকটের কারণে খাবার প্যাকেটজাত ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত পলি ছাড়া খাদ্যসামগ্রী প্যাকেটজাত করা সম্ভব নয়। তাই দুই থেকে তিন দিনের জন্য সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি খাইরুল বাশার জানান, খাবার সরবরাহের জন্য যে ধরনের পলির নমুনা বিএসটিআই থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে সারা দেশে তার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বাহুবল ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় তারা খাবার সরবরাহ করে থাকে। শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে সেই কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএসটিআই অনুমোদিত কারখানা থেকেই খাবার সংগ্রহ করা হয়। কোথাও সমস্যা হলে শিক্ষকদের মাধ্যমে তা পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
@
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ভাড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মিড-ডে মিল না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী পাশের দোকান থেকে খাবার কিনে খাচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অনেক শিক্ষার্থী না খেয়েই ক্লাস করছে।
ভাড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ দেব জীবন জানান, শিক্ষা অফিস থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে দুই থেকে তিন দিন খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় সব শিক্ষার্থীকে বিষয়টি জানানো সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকে খাবার না নিয়েই স্কুলে এসেছে।
তার ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার একটি আইটেম হিসেবে ডিম সরবরাহ করা হলেও এরপর আর কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে।
কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একরামুল কবীর জানান, আরও দুই দিন খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে বলে শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে শুরু থেকেই স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে নিম্নমানের খাবার, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি, কাঁচা ও নিম্নমানের কলা সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও নষ্ট ডিম বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা।
অভিভাবক জুনায়েদ মিয়া বললেন, খাবারের কারণে শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যেত। এখন খাবার বন্ধ থাকায় দোকান থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। এতে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে পলির সংকটের বিষয়টি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি তদন্ত দল বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে। তারা তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
খাবারের মান নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, কোথাও কোথাও কলা কম পাকা বা বেশি পাকা হওয়া এবং বনরুটির প্যাকেট নিয়ে অভিযোগ থাকতে পারে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলমের ভাষ্য, তিন দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে। খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে খাদ্যের মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






