কাজ শেষ হয়নি, ফেরত গেল প্রকল্পের ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা
- সময়ের অভাবে থেমে গেল খাল পুনঃখনন প্রকল্প
- খাল পুনঃখনন অসম্পূর্ণ, কৃষকদের আশায় ভাটা
- পরিকল্পনা ছিল বড়, বাস্তবায়ন হলো মাত্র ২৩ শতাংশ

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের আলিয়াছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কাজ শেষ হয়নি। তাই প্রকল্পের অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে এর কারণ হিসেবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের আলিয়াছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ৩০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের জন্য মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভুনবীর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দূর, খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২ হাজার ৭৫০ মিটার আলিয়াছড়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পে খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই তীর সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে আরসিসি রিং পাইপ বসানোর পরিকল্পনাও ছিল।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। ১৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাত্র ৬৪০ মিটার খাল পুনঃখনন করা সম্ভব হয়, যা মোট কাজের ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।
পিআইও কার্যালয় জানিয়েছে, সম্পন্ন হওয়া কাজের জন্য মোট ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট বাবদ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা এবং আয়কর বাবদ ২৯ হাজার ৪১২ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ শ্রমিকের মজুরি, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, এক্সকাভেটর ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়। সব ব্যয় পরিশোধের পর অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ৩০১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে খালটি ভরাট থাকায় ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল, আলিসারকুল, বাদেআলিশা, শাসন রাজপাড়া ও পাত্রীকুল মৌজার প্রায় চার হাজার একর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
তাদের আশা, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে উল্লেখযোগ্য সুফল মিলবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্লাবন পাল আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, প্রকল্প এলাকায় পানি জমে থাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সম্পন্ন হওয়া অংশের ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।







