দিনাজপুর
গোর-এ-শহীদ ময়দানে লাখো মুসল্লির ঈদের নামাজ

ছবি: আগামীর সময়
রাতের আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা আর মেঘলা আকাশ কাটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সম্পন্ন হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় এই ঐতিহাসিক ময়দানে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন লাখো মুসল্লি।
সকাল থেকেই চারপাশের আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকায় এবং আগের রাতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মুসল্লিদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে সব শঙ্কাকে একপাশে সরিয়ে শুধু দিনাজপুর জেলা নয়, বরং আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ ভোরের আলো ফুটতেই ছুটে আসেন এই বিশাল ঈদগাহে।
নামাজ শুরুর বেশ আগেই, সকাল ৬টা থেকেই মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করে পুরো ময়দান। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৮টায় লাখো মানুষের কাতারবন্দি হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের জামাত। এই বিশাল ঈদ জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুরের সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে এক আবেগঘন পরিবেশে হাত তোলেন লাখো মুসল্লি। মোনাজাতে দেশ, জাতি, মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
ব্যতিক্রমী এই বৃহৎ ঈদ জামাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা এবং দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. রিয়াজ উদ্দিন।
এত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ওজু, গাড়ি পার্কিং, সুপেয় পানি ও জরুরি মেডিকেল টিমের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। বিশাল মাঠের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত শব্দ পৌঁছানোর জন্য অর্ধশতাধিকেরও বেশি মাইক লাগানো হয়। পুরো ময়দানে প্রবেশের জন্য রাখা হয়েছিল ১০টি গেট। আর আইনশৃঙ্খলার সার্বিক নজরদারির জন্য দিনাজপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়, যার ফলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় ঈদের এই প্রধান জামাত।






