চৌদ্দগ্রাম
স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতা, ব্যাহত পাঠদান

ছবি: আগামীর সময়
পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের খামার পুস্কুরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাঁটু পানি জমে যায়। মাঠজুড়ে নোংরা পানি জমে থাকায় ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান। এতে চরম দুর্ভোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
দুর্ভোগ থেকে শিশুদের রক্ষা, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্রত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
আজ বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, শুভপুর ইউনিয়নের পদুয়া খামার পুস্করণী একটি জনবহুল এলাকা। ১৯৭৩ সালে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনে ১২১ নম্বর খামার পুস্করণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে বিদালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪০ জন। গ্রামে অনেক শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও গুণীজনের জন্ম হলেও কালের পরিক্রমায় বিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। গত দুই দিনের সামান্য বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বেশ কিছু দিন পানি জমাটবদ্ধ থাকে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় জুতা-মোজা হাতে নিয়ে, জামা কাপড় ভিজিয়ে ক্লাসে যেতে দেখা যায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের।
বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। নোংরা পানি দিয়ে হাঁটার কারণে ছোট ছোট শিশুদের জন্য ভয়াবহ পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও মাঠ ভরাট করা যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, মাঠটি দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামছুন নাহার জানান, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ নিচু হওয়ায় আশপাশের বাড়ির পানি মাঠে এসে জলাবদ্ধতা তৈরি করে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশও হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে অনিয়মিত। মাঠটি ভরাট করলে কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত। এতে শিক্ষার পরিবেশ ঠিক হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বললেন, ‘শিক্ষক ও অভিভাবক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার বিষয়টি জানিয়েছে। ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করে মাধানের চেষ্টা করব।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানালেন, ‘স্থানীয় একজন সচেতন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে, সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’





