দুমকি
কাগজে প্রকল্প, মাঠে নেই কাজের অস্তিত্ব

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর দুমকিতে কাজ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে কাবিখা ও টিআর প্রকল্পে। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের বেশ কয়েকটিতে কাজের অস্তিত্ব না পাওয়া, কোথাও নামমাত্র কাজ করা এবং প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের তদন্তে মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন অভিযান চালায় দুদক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদের গাড়ি ধোয়ার র্যাম্পের সামনে মাটি ভরাট ও ইট সোলিংয়ের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সরেজমিন সেখানে মাটি ভরাটের কাজ পাওয়া যায়নি। জলিশা তালুকদার জামে মসজিদ থেকে সৈয়দ আমিনুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত ৫ টন গম বরাদ্দ সেখানে কোনও কাজ হয়নি। প্রকল্পের নথিতে ৮২৫টি ইট ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।
একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের ফুলবাগান ও উপজেলা পরিষদের মাঠে মাটি ভরাটের কাজেরও অস্তিত্ব মেলেনি।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কুলসুম বেগমের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপন এবং চরবয়রা রাজীবেরি থেকে কুইজঘাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের প্রকল্পেও কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
লেবুখালী ইউনিয়নে মকবুল শরিফ থেকে সিদ্দিক শরিফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে তদন্তে প্রায় ১০ বছর আগের পুরোনো রাস্তা ছাড়া নতুন কাজের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মহাসড়ক থেকে শরিফ বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজও হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান।
এদিকে পাঁচটি নির্বাচনকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য এক লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দের তথ্য পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। সাতানী আমিনুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কার্তিকপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কাজের নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক তথ্যও পেয়েছে দুদক।
দুদক তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কাবিখা ও টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ তুলনামূলক কম হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের বিস্তৃতি রয়েছে। কোথাও প্রকল্পের সভাপতি নিজের নামে বরাদ্দ নিয়ে অর্থ উত্তোলন করেছেন, আবার কোথাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তাপস বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিরা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মুঠোফোনে জানান, আমি ছুটিতে আছি। যেহেতু দুদক তদন্তে নেমেছে সেহেতু এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।




