এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থমকে ভূমিসেবা
- বিশ্বনাথে বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও স্থবির

সংগৃহীত ছবি
প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হিসেবে পরিচিত সিলেটের বিশ্বনাথ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী এ উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের জমিসংক্রান্ত নানা কাজ নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হয় উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে। কিন্তু প্রায় দেড় মাস ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় ভূমিসেবা কার্যত চলছে ধীরগতিতে। নামজারি, জমাখারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি কেনাবেচাসহ বিভিন্ন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। একই সঙ্গে বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে অনেকটাই।
এই ভোগান্তির মূল কারণ প্রশাসনিক শূন্যতা। উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২১ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুর রহমান বদলি হয়ে অন্য কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর থেকে পদটি শূন্য। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভূমি অফিসে নিয়মিত সময় দেওয়া
তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দারা।
উপজেলা দলিল লেখক মাছুম আহমদ মারুফের ভাষায়, ‘প্রতিদিনই কেনাবেচা হচ্ছে জমি। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় নামজারি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। দুর্ভোগে পড়ছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষই।’
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। বিশ্বনাথ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবদুল আজিজ জানিয়েছেন, প্রায় দেড় মাস ধরে এসিল্যান্ড না থাকায় নামজারি ও জমাখারিজের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ফলে সেবাগ্রহীতারা সেবা পাচ্ছেন না সময়মতো। তাদের পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সমস্যার ব্যাপ্তি আরও বড় বলে জানিয়েছেন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেছেন, উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনে রয়েছে চারটি সহকারী ভূমি অফিস। এসব অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে হয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুমোদনের মাধ্যমে। পদটি শূন্য থাকায় অধীনস্থ অফিসগুলো থেকেও সম্ভব হচ্ছে না নিয়মিত সেবা দেওয়া।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাশেম বলেছেন, বিষয়টি জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। তিনি আশা করেন, শিগগিরই এ উপজেলায় একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করা হবে এবং স্বাভাবিক হয়ে আসবে ভূমিসেবা।




