রুয়েটের জমি দখলমুক্ত করতে শিক্ষার্থীদের ৭ দিনের আলটিমেটাম

ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মালিকানাধীন জমি দখলমুক্ত, সীমানা সুরক্ষা এবং অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে প্রশাসনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী নগরীর তালাইমারিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় রুয়েটের প্রশাসনিক ভবন থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি তালাইমারিতে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়। ‘রুয়েটের জমি রক্ষা করুন- সীমানা সুরক্ষিত করুন; অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন’ শীর্ষক কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দুটি মূল দাবি তুলে ধরেন। রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত পাবলিক টয়লেটসহ সব অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ এবং মেইন গেট ও সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর মুক্ত করো, মুক্ত করো’, ‘অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘আমাদের দুই দফা মানতে হবে, মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগরীর তালাইমারি এলাকায় রুয়েটের মালিকানাধীন জমির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটি থাকলেও জমি পুনরুদ্ধারে বিগত রুয়েট প্রশাসন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে দাবি তাদের।
বর্তমানে ওই স্থাপনার পাশেই রুয়েটের পুরকৌশল অনুষদের ১০তলা প্রাতিষ্ঠানিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, ভবনের সামনে এমন স্থাপনা থাকায় শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা, চলাচল ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেছেন, 'রুয়েটের সীমানায় ফ্যাসিস্ট আমলের একটি পাবলিক টয়লেট এবং প্রাচীর সংলগ্ন সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। কারণ রুয়েটের সীমানার ভেতরে কোনো অবৈধ স্থাপনা চাই না। পাবলিক টয়লেট থাকলে সেটা অন্যত্র থাকবে, রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে নয়।'
তিনি আরও বললেন, 'সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে অনেকগুলো অবৈধ স্থাপনা পথচারীদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। মেইন রোডে ভারী যানবাহন চলাচল করে। অথচ শিক্ষার্থী ও পথচারীরা সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফুটপাত মুক্ত করতে হবে।'
শিক্ষার্থীরা জানালেন, সাত দিনের মধ্যে পাবলিক টয়লেট, দোকানপাটসহ অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বহন করবেন না।
জনসাধারণের জন্য পাবলিক টয়লেট প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বাইরে উপযুক্ত স্থানে বৈধভাবে তা নির্মাণের তাগিদ দেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখল বা ব্যবহারের হাত থেকে রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু পরিবেশ ও নান্দনিকতার জন্য উদ্বেগের কারণ। রুয়েট দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় সম্পদ। তাই এর জমি, সীমানা ও অবকাঠামো রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে নির্মাণের সুযোগ পেয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সীমানাপ্রাচীর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এর আগে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ আগস্ট ছয় দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।







