হাজারের বেশি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করেছেন সমীর

কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমীর- আগামীর সময়
শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসরে গিয়েছেন ২০২১ সালে। কিন্তু কর্মপ্রেমী মানুষের কি আর অবসর ভালো লাগে। নিজেকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনে নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজ হাতে কয়েক বছরে রোপণ করেছেন সহস্রাধিক কৃষ্ণচূড়ার চারা। মানুষটি আতিকুল হক সমীর। তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
কর্মজীবনে ছিলেন স্থানীয় বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দুই পুত্রসন্তানের জনক সমীর এখনো রোপণ করে যাচ্ছেন কৃষ্ণচূড়ার চারাগাছ। ‘শীতল শোভিত শিক্ষালয়’প্রতিপাদ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে রোপণ করা বৃক্ষেই খুঁজে পেয়েছেন জীবনের পরম শান্তি ও সফলতা।
নিজ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, ঘাটাইল উপজেলার ২টি ইউনিয়ন (সাগরদিঘী ও ধলাপাড়া), কালিহাতীর ২টি ইউনিয়ন (পারখী ও নাগবাড়ি) এবং পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার উথুরা ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, হাসপাতাল, শ্মশানঘাট ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে নিজের কেনা কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করে চলছেন।
১৯৯৫ সালে বড়চওনা কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গভর্নিং বডির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সমীর। শুধু শিক্ষক নন, ফুটবল, ভলিবল ও কাবাডি খেলায় একজন দক্ষ রেফারি হিসেবেও এলাকায় তার সুনাম। লেখালেখিতেও রেখেছেন অবদান। ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় তার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘শ্যামলিমা’। নিজ বাড়িতে তৈরি করেছেন এক হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ এক পাঠাগার।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে শিক্ষক সমীর বলেন, ‘মানুষ ও সমাজের জন্য কিছু করতে পারলেই জীবনের স্বার্থকতা। অনেকে অবসর সময়কে কর্মহীন, উপার্জনহীন ও আলস্যের মনে করেন; কিন্তু আমি তা মনে করি না। সীমাবদ্ধ আয়ের মধ্যে থেকেও যদি প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণে কিছু করা যায়, তবেই জীবন শান্তিময় হয়ে ওঠে।’
‘একদিন এই গাছগুলো অনেক বড় হবে। গাঢ় সবুজের ডগায় ফুটবে হাজারো লালচে ফুল। সেই ফুলের সৌন্দর্যে রঙিন হবে চারপাশ, আর শীতল ছায়ায় প্রাণ জুড়াবে হাজারো শিক্ষার্থীর— সেদিনই আমি নিজেকে একজন সফল মানুষ মনে করব,’ যোগ করেন সমীর।
অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষকের উদ্যোগে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মহানন্দপুর বিজয় স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘সমীর স্যারের নিজ খরচে বৃক্ষরোপণের এই প্রচেষ্টা এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ। এটি তার জন্য সদকা-ই-জারিয়া হয়ে থাকবে।’
মোন্তাজ নগর আবাসিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন এবং সখীপুর সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান নাছিমা আক্তার বলেন, এটি কেবল বৃক্ষরোপণ নয়, শিক্ষার্থীদের পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শেখানোর এক দারুণ প্রায়োগিক শিক্ষা।
সমীরের এই কাজে অনুপ্রেরণা পায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও। বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসারা সাফিয়া সাউদা জানায়, ‘স্যারের এই কাজ আমাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমাদের স্কুলের আঙিনায় রূপ নেওয়া এই গাছটি যখন বড় হয়ে সবাইকে ছায়া দেবে, সেই অনুভূতি হবে সত্যি আনন্দের।’






