খাদ্যে বেগ খামারিদের উদ্বেগ
- পাবনায় পশু পালনে খরচ লাগামহীন
- চাহিদা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। প্রস্তুত আছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি
- দুই বছরে খাদ্যের দাম বেড়েছে ৪০০-১০০০ টাকা

দেশে পশু উৎপাদনকারী জেলার মধ্যে পাবনা অন্যতম। পশুর হাটে এই অঞ্চলের গরুর চাহিদাও ব্যাপক। ঈদের বাকি এখনো এক সপ্তাহের বেশি। কোরবানির পশু হাটে তুলতে শুরু করেছেন খামারিরা। সবার একটাই প্রত্যাশা- ভালো দাম। তবে প্রত্যাশার আড়ালে খামারিদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে উদ্বেগের রেখা।
কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গত দুই বছরে বেড়েছে পশুখাদ্যের দাম। যার প্রভাব পড়েছে গরু পালনে। সেই তুলনায় বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা। এ দুইয়ের দোলাচলে দিশাহারা প্রান্তিক থেকে শুরু করে বড় খামারিরাও।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের খামারি রাজু মোল্লা জানালেন, গত বছরের তুলনায় ৪০ কেজি ওজনের এক বস্তা গম, মসুর ও অ্যাঙ্কর ডালের ভুসির দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ধানের কুঁড়া ও খড়ের দামও মণপ্রতি বেড়েছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
একটি গরুর পেছনে বাড়তি খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। যারা শ্রমিক রেখে খামার চালান, তাদের খরচ আরও বেশি। অথচ বাজারে গত এক সপ্তাহে গরুর দাম প্রতি মণে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পড়ে গেছে— ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, সদর, ঈশ্বরদী ও চাটমোহর উপজেলার প্রতিটি ঘরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে পশুর এই আধিক্য এবং বাড়তি ব্যয় আরও ভাবিয়ে তুলছে খামারিদের। তাদের ভাষ্য, গত দুই বছরে দানাদার খাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
সদর উপজেলার গয়েশপুর এলাকার খামারি বেলাল হাজিরও দুশ্চিন্তা বড় গরু নিয়ে। কারণ হিসেবে তিনি বললেন, ‘গত বছর ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ১৩ মণ ওজনের একটি গরু কিনেছিলেন। এক বছরে লালন-পালনে খরচ হয়েছে আরও ২ লাখ টাকা। বর্তমানে গরুর ওজন প্রায় ২০ মণ। এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতা বলছে না দাম। বড় গরুর খরিদ্দার কম, অথচ এগুলো পালতে খরচ সবচেয়ে বেশি।’
খামারিদের একটি বড় উদ্বেগের জায়গা হলো ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা গরু। ‘ভারতের গরু যদি দেশের বাজারে ঢুকে যায়, তবে স্থানীয় খামারিরা পড়বেন ক্ষতির মুখে। সারা বছরের মেহনত হবে ধূলিসাৎ— এমন আশঙ্কা খামারি রাজু মোল্লার।
তিনি মনে করেন, এই দিকটায় সরকারের কঠোরভাবে নজর দেওয়া উচিত, যাতে কোনোভাবেই হাটে না আসতে পারে ভারতের গরু।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, এবার পাবনায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত আছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। যার মধ্যে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫টি গরু। ছাগল ও ভেড়া আছে আরও ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার পশু উদ্বৃত্ত।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের আশা, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় হাটে করা হবে সরবরাহ। সেক্ষেত্রে খামারিদের আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি সার্বক্ষণিক। তাদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং পশুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা।’
‘খামারিরা যদি মণপ্রতি ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকা দাম পান, তবে তারা লাভবান হবেন। আমরা আশা করছি, এবার হাটগুলোতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে’— যোগ করেন তিনি।




