বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন

জেলা জজ আদালত, কুড়িগ্রাম
বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে ছিলেন স্ত্রী। বাধা হয়ে দাঁড়ান স্বামী। তাই কৌশলে স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন গৃহবধূ ও তার প্রেমিক। এতে সহযোগিতা করেন গৃহবধূর মা-বাবা। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আলীমুদ্দিন। সেই মামলায় আসামি করা হয় ৯ জনকে। প্রায় দুই দশক ধরে বিচারিক কার্যক্রম, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত বিচারক জয়নাল আবেদীন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফুলবাড়ীর গোড়কমণ্ডল গ্রামের নুর নাহার, তার প্রেমিক গফুর, বাবা নুর মোহাম্মদ এবং মা ছকিনা বেগম।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল নুর নাহার তার স্বামী কেতাব উদ্দিনকে দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে কৌশলে পাশের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা গফুর এবং নুর নাহারের মা-বাবার সহযোগিতায় কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি জমিতে ফেলে রাখা হয়। ঘটনার পরদিন ১৯ এপ্রিল মামলা করেন নিহতের বাবা আলীমুদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট তারিকুল রহমান। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তারিকুর রহমান তারিক বললেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টান্তমূলক এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ায় সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে, যা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’





