নীরবতার কবরস্থানে রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব

সংগৃহীত ছবি
মানুষের চিরনিদ্রার শেষ ঠিকানা কবরস্থান। যেখান থেকে ফিরে আসে না কেউ। যেখানে থাকার কথা গভীর নীরবতা, স্মৃতি আর শ্রদ্ধার আবহ। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার দুই গ্রামের মানুষের সংঘর্ষে ভেঙে গেছে নীরবতার সেই শোকাবহ পরিবেশ। পবিত্র জায়গাটিই আজ রক্তে রঞ্জিত।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে গোপগ্রাম ইউনিয়নের বড়ইচারা ও সাতপাখিয়া গ্রামের মধ্যে ঘটে সংঘর্ষের এ ঘটনা। এতে উভয় পক্ষের আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক প্রজন্ম ধরে একই কবরস্থান ব্যবহার করছে বড়ইচারা ও সাতপাখিয়া গ্রামের মানুষ। ওই কবরস্থানের নিচু জায়গা ভরাটের কাজ শুরু হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই গ্রামের মধ্যে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে।
সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন শেখের দাবি, সকালে মাঠে কাজ করছিলেন তারা। বড়ইচারা গ্রামের কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তবে বড়ইচারা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ ভিন্ন।
তারা জানান, কবরস্থানের শতবর্ষী গাছগুলো গোপনের বিক্রি করেছে সাতপাখিয়া গ্রামের কিছু লোক। দীর্ঘদিনের এ ক্ষোভ এবং মাটি ভরাট নিয়ে অস্বচ্ছতার কারণেই এ ঘটনা।
সংঘর্ষে আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে দুইজনের অবস্থা গুরতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে।
এ বিষয়ে গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী জানান, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। মৃত মানুষের শেষ ঠিকানায় এমন বিবাদ কাম্য নয়। আমরা চেষ্টা করছি পরিস্থিতি শান্ত করার।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শান্তি বিরাজ করছে এলাকায়। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।’















