ফ্যাসিস্ট আমলে সনাতনীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেনি: খন্দকার মারুফ

সংগৃহীত ছবি
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা যুগে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেনি। চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের দিন কেটেছে। সে সময় হামলা ও সহিংসতার আশঙ্কায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করত।
আজ সোমবার শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর সদরের শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া, উত্তর সতানন্দি, সাহাপাড়া এবং সুন্দলপুর ও গোয়ালমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে পৃথক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
খন্দকার মারুফ হোসেন বললেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। দুর্গোৎসবকে আনন্দময় ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পূজারিদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের সহিংসতা প্রতিরোধে পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তাই সবাইকে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের আহ্বান জানালেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেছেন, বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে সংখ্যালঘু বলে আলাদা কোনো পরিচয় নেই। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষসহ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। পূজামণ্ডপে হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটেছে।
দুর্গাপূজাকে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উল্লেখ করে খন্দকার মারুফ বলেছেন, দুর্গোৎসব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক। এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, মানুষের মিলনমেলাও। দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পতনের যে বার্তা পাওয়া যায়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজের অন্যায়, ভেদাভেদ ও অকল্যাণ দূর করতে হবে।
তিনি বলেছেন, মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পূজামণ্ডপগুলো সম্প্রীতি ও মিলনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন তিনি।
এদিন সকালে দাউদকান্দি পৌর সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন খন্দকার মারুফ হোসেন। এ সময় তিনি বলেছেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব ও ছাদবাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের কর্মসূচিতে দাউদকান্দির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারসহ স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



