পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ সরাসরি ট্রেন চালু

‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন নিয়ে স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে শুরু হয়েছে সরাসরি ট্রেন চলাচল। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। সন্ধ্যায় ট্রেনটি গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছালে ফুল দিয়ে যাত্রীদের স্বাগত জানান কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। পদ্মা সেতু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি।
এদিকে ট্রেন আসার খবর পেয়ে আগে থেকেই স্টেশনে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। ট্রেনটি পৌঁছালে ফুল দিয়ে যাত্রীদের স্বাগত জানান তারা।
প্রথম দিন ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে আসা যাত্রীদের চোখে-মুখেও ছিল আনন্দের ছাপ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরাসরি রেল যোগাযোগের ফলে শুধু রাজধানীর সঙ্গে জেলার যোগাযোগ সহজ হবে না, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর সুফল মিলবে।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, শনিবার বাদে সপ্তাহের ছয় দিন ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচল করবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ট্রেনটি ছাড়ার কথা রয়েছে। গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। ফিরতি ট্রেনটি একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে রাজধানীতে পৌঁছাবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে।
গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার রত্না বৈদ্য জানান, প্রাথমিকভাবে আটটি কোচ নিয়ে ৬০৯টি আসনের ব্যবস্থা থাকছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান সময়সূচি পরিবর্তন করে সকালে ঢাকা থেকে ট্রেন ছাড়ার ব্যবস্থা করা হোক। তাদের মতে, এতে অফিস, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে রাজধানীতে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
২০১৮ সালে গোপালগঞ্জে রেললাইন স্থাপনের পর একই বছর গোপালগঞ্জ-রাজশাহী রুটে ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’ চালু হয়। তবে পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি ট্রেনে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের। নতুন এই ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।





