টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ

টিটা পানাইল চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘর ভেঙে নিচ্ছেন ক্রেতা
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কোনো ধরনের নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার টিটা পানাইল চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খানের বিরুদ্ধে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের টিন, ইটসহ বিভিন্ন মালামাল সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা মালামালের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, মূল্যবান এসব মালামাল নামমাত্র দামে বিক্রি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্রেতারা ঘর দুটি ভেঙে মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
আজ শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, ঘর দুটির মধ্যে একটির পুরো কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ইট নসিমনে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অপর ঘরটির টিনের চালা ও বেড়া খুলে নেওয়া হয়েছে।
এ সময় ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শিকড়পুর গ্রামের হরেকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খানের কাছ থেকে তিনি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় ঘর দুটির ইট কিনেছেন। গত তিন দিন ধরে এসব ইট ভেঙে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুসলিমা বেগম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খান প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি বলেন, ‘ঘরগুলো টেন্ডার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু পরবর্তীতে আর টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ঘরের টিনগুলো ভাঙারির কাছে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। বিক্রির সেই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে সুপারি গাছ লাগিয়েছি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



