অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ার
ভাঙছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত

সংগৃহীত ছবি
পূর্ণিমার জোয়ার আর উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের বিস্তীর্ণ অংশে দ্রুতই হচ্ছে বালুক্ষয়। কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটির নিচের মাটিও ধসে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেকোনো সময় স্থাপনাটি বিলীন হয়ে যেতে পারে সমুদ্রে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, ভেতরে থাকা মালপত্র সরিয়ে নিয়েছেন দায়িত্বে থাকা সদস্যরা। এখন বক্সটির সামনের অংশে বসেই দায়িত্ব পালন করছেন তারা। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসানের ভাষায়, ‘এক বছর ধরে পুলিশ বক্সের আশপাশের সৈকত ভাঙনের কবলে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, উপজেলা মাসিক সভাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জানানো হলেও নেওয়া হয়নি স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা। গত কয়েক দিনের উত্তাল ঢেউয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বক্সের সব মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
সৈকতসংলগ্ন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জোয়ারের পানি আগের চেয়ে অনেক বেশি ভেতরে ঢুকে পড়ছে। ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ী শিমুল বললেন, ‘কয়েক মাস আগেও সৈকতের যেসব জায়গায় পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতেন, এখন সেসব স্থানে ভাঙনের কারণে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পানি মসজিদ, মন্দির ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের কাছাকাছি চলে আসায় সৈকত এবং আশপাশের স্থাপনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বেড়েছে।’
প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ঠেকাতে জরুরি কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটি রক্ষায় আপাতত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলমের ভাষ্য, ‘কুয়াকাটায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে গেলে মুখোমুখি হতে হয় বিভিন্ন সমস্যার। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটি রক্ষায় আপাতত বালুর বস্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে এ কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।’






