‘বাঁধ’ বিলীন তিস্তায়, পানিবন্দি ৫০০ পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
তিস্তার ভাঙনে গত কয়েক বছর ধরে সর্বস্বান্ত হয় লালমনিরহাট সদরের হরিণচড়া ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার সীমান্তবর্তী মর্ণেয়া ইউনিয়নের মানুষজন। ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলুর উদ্যোগে চলতি বছরই প্রায় দুই কিলোমিটার তীর সংরক্ষণের কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙনরোধসহ তিন গ্রামের ১৫০০ পরিবারের ঘরবাড়ি রক্ষায় এই কাজেও স্বস্তি মিলল না নদীপাড়ের মানুষের। কাজ করার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই ‘বাঁধ’ বিলীন হলো তিস্তায়।
তিস্তার পানি এই বাড়ছে, এই কমছে। এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহখানেক আগে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। যদিও তা রক্ষায় কাজ করছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। সোমবার রাতে দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারন করে। তীব্র স্রোতে নবনির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে পাঁচ পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়াসহ লোকালয়ে পানি ঢুকে প্রায় ৫০০ পরিবারের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা। নতুন করে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তিন গ্রামের ১৫০০ পরিবারের।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত এবং হঠাৎ পানি কমে যাওয়ার কারণে নদীতীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ১৫০০ পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ করা হয়েছে। বাঁধ হিসেবে যার ওপর দিয়ে চলাচলসহ ওই তিন গ্রামের মানুষ আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু তিস্তার স্রোতে সেই বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পশ্চিম হরিণচড়া এলাকার আব্দুল হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ‘দুলু মন্ত্রীক ধরি এদ্দিন পর বাঁধ হইল। কয় মাসের মাথায় সেটাও নদীত চলি গেইল, এইবার হামারগুলার মরণ ছাড়া বুদ্দি (উপায়) নাই।’
তালপট্রি এলাকার নূর মোহাম্মদ ও নরশিং এলাকার মতলেব আলী বললেন, ‘বাঁধ দেওয়ার পর টিকি থাকার স্বপ্ন দেকচেনো। এ্যালা এ্যাটে থাকি চলি যাওয়া ছাড়া হামার কোনো পথ নাই।’
তারা অভিযোগ করেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরও যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নিতো তাহলে হয়তো বাঁধটা ঠেকানো যেত।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেন, কয়েক দিন ধরে সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




